জীবনযাত্রা খাবার-দাবার

মুড়ি খাওয়া কি স্বাস্থ্যকর ?

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক:

প্রকাশ : ১৮-৩-২০২৫ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০৪৯

শীতের সকালে বা বিকেলের নাশতায় মুড়ি খাওয়ার চল অনেকের মধ্যেই রয়েছে। মুড়ির সঙ্গে পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ বা পাকোড়া মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাসও রয়েছে অনেকের। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বেশি বেশি মুড়ি খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুড়ি খাওয়া ভালো, তবে পরিমাণে সতর্ক থাকা জরুরি।  

মুড়ি হালকা ও সহজপাচ্য খাবার। নিয়মিত মুড়ি খেলে অ্যাসিডিটি কমে এবং পেটের সমস্যায় তাৎক্ষণিক উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া মুড়ি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখে। মুড়িতে পর্যাপ্ত শর্করা থাকে, যা দৈনন্দিন কাজে শক্তি যোগায়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত মুড়ি খেলে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।  

অতিরিক্ত মুড়ি খাওয়ার ক্ষতিকর দিক  
১. পেটের সমস্যা: মুড়ি হালকা খাবার হলেও অতিরিক্ত খেলে পেটে গ্যাস, বদহজম ও অন্ত্রের সমস্যা হতে পারে।  
২. পুষ্টির ঘাটতি: মুড়িতে পুষ্টি উপাদান কম থাকে। নিয়মিত বেশি মুড়ি খেলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।  
৩. অ্যালার্জির ঝুঁকি: মুড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে গেলে অ্যালার্জি বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।  
৪. ওজন বৃদ্ধি: মুড়ির ক্যালোরি কম হলেও এর সঙ্গে চানাচুর, পাকোড়া বা তেলে ভাজা খাবার মিশিয়ে খেলে ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যায়, যা ওজন বাড়াতে পারে।  

কতটুকু মুড়ি খাওয়া নিরাপদ?  
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে এক বাটির বেশি মুড়ি খাওয়া উচিত নয়। মুড়ি খাওয়ার সময় তেলে ভাজা খাবারের পরিবর্তে শুধু মুড়ি খাওয়া ভালো। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের মুড়ি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।  

মুড়ি একটি সহজলভ্য ও স্বাস্থ্যকর খাবার, তবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই উত্তম। অতিরিক্ত মুড়ি খাওয়া এড়িয়ে চললে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে সুস্থ থাকা সম্ভব।