সকল খবর ময়মনসিংহের খবর

ঈদে পরিবারের কাছে ফিরলেন লাশ হয়ে, শোকে স্তব্ধ গ্রাম !

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক:

প্রকাশ : ২৯-৩-২০২৫ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০২৭

ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে মিলনের আশায় গ্রামের বাড়ি ফিরেছিলেন সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজলুর রহমান কবির। কিন্তু সেই ফেরা হলো লাশ হয়ে। শুক্রবার (২৯ মার্চ) ভোরে একটি লাশবাহী গাড়ি নিয়ে তার নিথর দেহ পৌঁছায় নান্দাইল উপজেলার মেরেঙ্গা গ্রামের বাড়িতে। সঙ্গে ছিলেন শোকার্ত মা শরবানু বেগম, স্ত্রী মেঘলা আক্তার ও দুই শিশু সন্তান। বাদ জুমা জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।  

নিহত কবির (৩৯) মুশুলী ইউনিয়নের মেরেঙ্গা গ্রামের ভূঁইয়া পরিবারের সন্তান। স্থানীয় আব্দুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয় ও নান্দাইল সরকারি শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকার তিতুমীর কলেজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে এলএলবি ডিগ্রি নিয়ে ২০০৬ সালে পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল হিসেবে যোগ দেন। ধাপে ধাপে উন্নীত হয়ে ২০১৮ সালে এসআই পদে পদোন্নতি পান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সাভার থানায় দায়িত্ব পালন করছিলেন।  

দুর্ঘটনার বিস্তারিত জানাতে গিয়ে সাভার থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নেসার উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সহায়তা করার পর দুপুর ২টার দিকে কবির নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে থানায় ফিরছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রাক তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ট্রাক চালককে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।  

কবিরের বড় ভাই হারুন অর রশিদ (সিভিল এভিয়েশনে কর্মরত) বলেন, "ভাইয়ের সঙ্গে মা থাকতেন সাভারে। ঈদে সবাই মিলে বাড়ি আসার পরিকল্পনা ছিল। কেউ ভাবিনি, ফ্রিজিং ভ্যানে করে তার লাশ ফিরবে।" কথাগুলো বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।  

গ্রামবাসী ও সহকর্মীদের ভাষ্য, কবির ছিলেন মিশুক ও পরোপকারী। প্রতিবেশী খোকা ভূঁইয়া বলেন, "তিনি আমাদের গ্রামের গর্ব। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতেন।"  

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, জানাজা ও দাফনে সহায়তার জন্য স্থানীয় পুলিশকে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নান্দাইল ও সাভার থানায় আলাদা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।  

শোকসন্তপ্ত পরিবারে রেখে গেছেন স্ত্রী মেঘলা, তিন বছরের মেয়ে আয়াত ও ১৮ মাসের ছেলে আলভীকে। পুলিশ সদস্যদের জন্য গৃহীত বীমা ও সহায়তা তহবিল থেকে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।