অন্যান্য খবর আইন-আদালত

মুক্তিপণ আদায়ে অপহরণ, ৫ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক:

প্রকাশ : ২৪-৩-২০২৫ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০২৬

বগুড়ায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কুন্দারহাট হাইওয়ে থানা পুলিশ। তারা একটি মাইক্রোবাসে করে অপহৃত দুই ব্যক্তির কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করছিল। এ সময় পুলিশের একটি ওয়াকিটকি এবং নগদ দুই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৪ মার্চ) ভোর ৫:৪৫ টার দিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের বীরগ্রাম এলাকায়, যেখানে হাইওয়ে পুলিশ মাইক্রোবাসটি থামিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিন মোহাম্মদ অনু ইসলাম, কনস্টেবল রিপন মিয়া, আবুল কালাম আজাদ, মাহবুব আলম, বাশির আলী এবং মাইক্রোবাসের চালক মেহেদী হাসান।

বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জেদান আল মুসা জানান, গত রোববার রাতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বগুড়ার ধুনট উপজেলায় গিয়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন। তারা ছিলেন, ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের দীঘলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা রাব্বী ও জাহাঙ্গীর। পরে তাদের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুরে গাড়ি থামিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

দর-কষাকষির পর অপহৃতদের কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আরও ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এরপর বগুড়া জেলা পুলিশ ঘটনাটি জানতে পেরে শেরপুর ও শাজাহানপুর থানার পুলিশ মাইক্রোবাসটির পেছনে追 এবং বীরগ্রাম এলাকায় এটি আটক করে।

তারা নিজেদের রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ গোয়েন্দা শাখার সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তারা কোনো অনুমতি ছাড়াই অসৎ উদ্দেশ্যে বগুড়ায় এসেছিলেন।

এসপি আরও জানান, ধুনট উপজেলার কনস্টেবল ওয়াহাবের মাধ্যমে এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ওয়াহাব সম্প্রতি ছুটিতে বাড়িতে আসেন, এবং তার তথ্যের ভিত্তিতেই রাজশাহী থেকে পাঁচজন এখানে এসে অপহরণ ঘটনাটি ঘটায়।

হাইওয়ে পুলিশ তাদের ধুনট থানায় হস্তান্তর করেছে, এবং অপহরণের অভিযোগে ভুক্তভোগীদের একজন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।